বলিউড অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া কঙ্গনা রানাউত ফের বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমের সামনে মন্তব্য করেছেন যে, ২০২১ সালে বাতিল হওয়া তিনটি কৃষি আইন পুনরায় চালু করা উচিত। কঙ্গনার এই বক্তব্যকে সরাসরি বিরোধিতা করে বিজেপি জানিয়েছে, তার মন্তব্য দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। মাণ্ডির সাংসদ কঙ্গনা রানাউত অবশ্য তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, “আমি আমার বক্তব্য ফিরিয়ে নিচ্ছি।”
এই ঘটনা গত দুই মাসে দ্বিতীয়বার, যখন বিজেপি কঙ্গনার কৃষি ইস্যু সম্পর্কিত মন্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে বাধ্য হয়েছে। আগস্ট মাসে, কঙ্গনার আরেকটি মন্তব্যের পর দল স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল যে, কৃষক আন্দোলন সম্পর্কে তার বক্তব্য দলের অবস্থান নয় এবং নীতিগত বিষয়ে কথা বলার জন্য তিনি অনুমোদিত নন। তিনি সেই সময় বলেছিলেন যে, কৃষক আন্দোলনের সময় যদি কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর ব্যবস্থা না নিত, তাহলে ভারতে “বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি” তৈরি হতে পারত।
কঙ্গনার এই মন্তব্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল এবং রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। যদিও বিজেপি কঙ্গনাকে দলের অংশ হিসাবে গণ্য করে, তবে তার একাধিক মন্তব্য দলের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত
কৃষি আইনগুলি ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা পাশ করা হয়েছিল। এগুলি ছিল কৃষি পণ্য বিক্রির স্বাধীনতা, মধ্যস্বত্বভোগীদের থেকে কৃষকদের রক্ষা এবং একটি আধুনিক কৃষি বাজার ব্যবস্থার প্রস্তাবনা নিয়ে। তবে দেশব্যাপী ব্যাপক কৃষক আন্দোলনের মুখে, ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় সরকার আইনগুলি বাতিল করতে বাধ্য হয়। এই আন্দোলন বিশেষ করে পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং পশ্চিম উত্তর প্রদেশের কৃষকদের মধ্যে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল।
বহু কৃষক সংগঠন এবং বিরোধী দলগুলি এই আইনগুলিকে কৃষকদের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল যে, এই আইনগুলি বড় কর্পোরেশনগুলিকে লাভবান করবে এবং কৃষকদের অধিকার লঙ্ঘন করবে। হাজার হাজার কৃষক দিল্লির সীমান্তে বসে থেকে আন্দোলন চালিয়েছিলেন এবং অবশেষে ২০২১ সালের শেষে সরকার আইনগুলি বাতিল করতে সম্মত হয়।
কঙ্গনার বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া
এই প্রেক্ষাপটে, মাণ্ডির সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, “২০২১ সালে বাতিল হওয়া তিনটি কৃষি আইন পুনরায় চালু করা উচিত। এই আইনগুলি দেশের কৃষকদের উন্নতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং এটি দেশের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।”
তার এই বক্তব্যের পরই বিজেপি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। দলীয় সূত্র জানিয়েছে যে, কঙ্গনার এই মন্তব্য দলীয় অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তিনি নীতিগত বিষয়ে কথা বলার জন্য অনুমোদিত নন। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা জানান, “এই বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে কঙ্গনার ব্যক্তিগত মতামত। দল এর সাথে একমত নয় এবং এই ধরনের মন্তব্য দলকে বিব্রত করে।”
এছাড়াও, পড়ুন : পয়েন্ট অফ কেয়ার হিমোগ্লোবিন বিশ্লেষক বাজার বিপ্লব (2024 – 2031)
দ্বিতীয়বার মন্তব্য প্রত্যাহার
কঙ্গনা রানাউত তার মন্তব্যের জন্য পুনরায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, “আমি আমার মন্তব্য ফিরিয়ে নিচ্ছি। আমার বক্তব্যের জন্য কারো অনুভূতিতে আঘাত লাগলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”
অতীতে, কঙ্গনার একাধিক মন্তব্য বিজেপির জন্য সমস্যার কারণ হয়েছে। আগস্ট মাসে, তিনি কৃষক আন্দোলন সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন যে, “বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি” হতে পারত যদি কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর ব্যবস্থা না নিত। তার এই মন্তব্যও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বিজেপি সেসময়ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জানিয়েছিল যে, এটি দলের অবস্থান নয় এবং কঙ্গনার মন্তব্য তার ব্যক্তিগত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কঙ্গনার মন্তব্যগুলো বিজেপির জন্য ক্রমাগত মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যদিও তিনি মাণ্ডির সাংসদ হিসাবে দলকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তবে তার বারবার বিতর্কিত মন্তব্য দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঙ্গনা একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হওয়ায় তার মন্তব্যগুলো গণমাধ্যমে বেশি প্রচার পায় এবং এর ফলে দলকে সমস্যায় পড়তে হয়।
একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “কঙ্গনার মন্তব্যগুলো বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। দল বারবার তার মন্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখলেও, তার মতামত দলীয় নীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।”
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
বিজেপি এখন কঙ্গনার সাথে তাদের সম্পর্ক সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে পারে। দলীয় নেতাদের মতে, এমন বিতর্ক থেকে দলকে মুক্ত রাখার জন্য আরও সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। কঙ্গনার মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের বক্তব্য দলের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং এই কারণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে পরিকল্পনা করতে হবে।
বিজেপির পক্ষ থেকে কঙ্গনাকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, তিনি যেন দলীয় নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ মন্তব্য করেন এবং নীতিগত বিষয়ে কোনো মন্তব্য করার আগে দলের সাথে আলোচনা করেন।
কঙ্গনা রানাউতের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে বিজেপি আবারও একটি কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে। যদিও তিনি তার মন্তব্য ফিরিয়ে নিয়েছেন, তবে এর প্রভাব রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। দলকে এখন কঙ্গনার মন্তব্য নিয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের বিতর্ক এড়ানোর জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করতে হতে পারে।