সাইক্লোন ডানা বৃহস্পতিবার মাঝরাতে ওড়িশার ভিতরকানিকা ও ধামরা উপকূলীয় অঞ্চলে আছড়ে পড়েছে, যার ফলে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে তীব্র বৃষ্টি ও প্রবল ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (IMD)-এর মতে, রাত ১২টা ১০ মিনিটে সাইক্লোনের ভূমি স্পর্শ শুরু হয় এবং তা শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভিতরকানিকা ও ধামরা, দুই অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানে প্রায় ১১০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতির বাতাস বয়ে যাচ্ছে।
IMD ভুবনেশ্বরের আঞ্চলিক পরিচালক মনোরমা মোহান্তি জানিয়েছেন, “ভূমি স্পর্শ প্রক্রিয়া শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চলবে। ভূমি স্পর্শের পর সাইক্লোনটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে উত্তরপূর্ব দিকে বাঁক নেবে এবং ধেনকানাল ও অঙ্গুল জেলার দিকে অগ্রসর হবে।”
উপকূলীয় এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
সাইক্লোন ডানার কারণে ধামরা ও ভদ্রকের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বহু গাছপালা উপড়ে পড়েছে, যার ফলে বেশ কয়েকটি রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণকার্য চালানোর জন্য জাতীয় বিপর্যয় প্রতিক্রিয়া বাহিনী (NDRF)-এর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো পরিষ্কার করার জন্য স্থানীয় জনগণও সহযোগিতা করছেন। তবে কিছু রাস্তায় এখনো যান চলাচল সম্ভব নয়।
ধামরার একটি স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, “আমাদের বাড়ির ছাদে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা নিজেরাই রাস্তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছি, তবে কিছু রাস্তা এখনো সম্পূর্ণরূপে খোলেনি।”
ভুবনেশ্বর বিমানবন্দর পুনরায় চালু
সাইক্লোনের কারণে ভুবনেশ্বর বিমানবন্দর গতকাল বন্ধ ছিল, তবে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে তা পুনরায় চালু হবে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, “বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতি না হলেও নিরাপত্তার কারণে আমরা গতকাল বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছিলাম। পরিস্থিতি এখন অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে, তাই আজ সকাল ৮টা থেকে আবার বিমান পরিষেবা চালু করা হবে।”
পশ্চিমবঙ্গেও সতর্কতা
সাইক্লোন ডানার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দিঘা, শংকরপুর, মন্দারমণি সহ রাজ্যের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় ইতিমধ্যে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকর্মীরা উপকূলীয় এলাকায় কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, “উপকূলীয় এলাকায় তীব্র বাতাস ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তাই আমরা মৎস্যজীবীদের সমুদ্র থেকে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছি।”
রেল পরিষেবা ব্যাহত
সাইক্লোনের কারণে বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। ইস্ট কোস্ট রেলওয়ের এক মুখপাত্র জানান, “ওড়িশার কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে ট্র্যাকগুলোতে জল জমে গেছে। এর ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরিষেবা পুনরায় চালু করা হবে।”
এছাড়াও, পড়ুন : LVDT সেন্সর বাজারের আকার 11.70% এর CAGR-এ বাড়ছে, এই প্রতিবেদনটি 2024-2030 টাইপ, বিভাজন, বৃদ্ধি এবং পূর্বাভাস দ্বারা বিশ্লেষণ কভার করে
নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা
ওড়িশা সরকারের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় ৫০০০ জনকে উপকূলীয় এলাকা থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে উদ্ধারকাজ এবং ত্রাণ বিতরণের জন্য প্রায় ১০টি NDRF টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং সকলকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রশাসন সবসময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আমরা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত আছি।”
বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত
বাতাসের কারণে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ায় বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, “আমরা দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, সেগুলোতে পুনরায় সংযোগ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। তবে বাতাসের কারণে কাজ করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।”
সার্বিক পরিস্থিতি
সাইক্লোন ডানার প্রভাব এখনও উপকূলীয় এলাকায় প্রবল, বিশেষত ধামরা ও ভিতরকানিকা এলাকায়। তবে, শুক্রবার সকাল থেকে বাতাসের গতিবেগ ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে বলে IMD জানিয়েছে। যদিও ঝড় দুর্বল হতে শুরু করেছে, তবুও উপকূলীয় এলাকায় আগামী কয়েক ঘণ্টা সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সাইক্লোন মৌসুমে এটি প্রথম বড় সাইক্লোন যা ওড়িশা উপকূলে আঘাত হেনেছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন, এবং আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী নির্দেশিকা অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।