কানাডায় বসবাসকারী ভারতীয় শিক্ষার্থীদের খালিস্তানি প্রভাব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের হাই কমিশনার সঞ্জয় বর্মা। সম্প্রতি এনডিটিভিকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কানাডায় খালিস্তানি সন্ত্রাসীরা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের অর্থ এবং খাদ্যের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নিজেদের চক্রে টেনে নিচ্ছে, যা ভারত ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সঞ্জয় বর্মা, যাকে সাম্প্রতিক সময়ে কানাডা থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের প্রক্রিয়ায় কানাডায় পড়তে আসা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। খালিস্তানি সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীরা এই শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকভাবে অর্থ ও খাবারের লোভ দেখিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। তাদের প্রলোভন দেওয়া হয় কানাডার ভারতীয় দূতাবাসের সামনে প্রতিবাদে অংশ নিতে এবং ভারত বিরোধী স্লোগান দিতে।
অর্থ ও খাদ্যের লোভ দেখিয়ে প্রভাবিত করা হয়
ভারতের প্রাক্তন হাই কমিশনার বর্মা বলেন, “কানাডার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং চাকরির সুযোগের অভাবের সুযোগ নিয়ে খালিস্তানি সন্ত্রাসীরা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করছে। তাদের অর্থ এবং খাবারের প্রলোভন দেখানো হয় এবং এর মাধ্যমে তাদের নিজেদের নোংরা পরিকল্পনায় ব্যবহার করা হচ্ছে।” এই পরিস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে বলে বর্মা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই সন্ত্রাসীরা ভারতীয় দূতাবাসের সামনে ভারত বিরোধী স্লোগান দিতে এবং ভারতের জাতীয় পতাকাকে অপমান করতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে।
ভারতীয় শিক্ষার্থীদের প্রতি সতর্কতা
ভারতের হাই কমিশনার সঞ্জয় বর্মা বলেন, কানাডায় বসবাসরত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের উচিত তাদের চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং খালিস্তানি সন্ত্রাসীদের যেকোনও ধরনের প্ররোচনা থেকে নিজেদের রক্ষা করা। “আমাদের শিক্ষার্থীরা খালিস্তানি সন্ত্রাসীদের প্রচার এবং চক্রান্তে জড়িয়ে পড়ছে। তারা কিছু ক্ষেত্রে বুঝতে না পেরে এই চক্রের মধ্যে ঢুকে পড়ছে।” বর্মা বিশেষ করে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “খালিস্তানি সন্ত্রাসীরা যখন তোমাদের প্রলোভন দেখায় তখন তোমাদের উচিত অত্যন্ত সতর্ক হওয়া। এই ধরনের প্রলোভনে পড়ে ভবিষ্যতের বড় বিপদ ডেকে আনো না।”
অভিভাবকদের জন্য বিশেষ বার্তা
কানাডায় বসবাসরত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতি সঞ্জয় বর্মার বিশেষ অনুরোধ, “আপনারা যাদের সন্তান কানাডায় পড়াশোনা করছে, তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। তাদের পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন এবং তাদের সঠিক পরামর্শ দিন। তারা যাতে খালিস্তানি সন্ত্রাসীদের প্রভাব থেকে নিরাপদ থাকে, তা নিশ্চিত করুন।”
ভারতের হাই কমিশনার মনে করিয়ে দেন, “খালিস্তানি সন্ত্রাসীরা যে ভাবে এই তরুণ প্রজন্মকে মগজ ধোলাই করছে, তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। শিক্ষার্থীরা অনেক সময় পরিস্থিতির গভীরতা বুঝতে পারে না এবং পরবর্তীতে নিজেদের বিপদে ফেলে দেয়।”
এছাড়াও, পড়ুন : বাইমেটাল সেন্সর বাজারের আকার 7.70% এর CAGR-এ বৃদ্ধি পাচ্ছে, এই প্রতিবেদনটি 2024-2030 এর প্রকার, বিভাজন, বৃদ্ধি এবং পূর্বাভাস দ্বারা বিশ্লেষণ কভার করে
খালিস্তানি আন্দোলনের বৃদ্ধি
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় খালিস্তানি আন্দোলন আরও সক্রিয় হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের সামনে খালিস্তানি সন্ত্রাসীদের দ্বারা পরিচালিত একাধিক বিক্ষোভ এবং ভারত বিরোধী স্লোগান শোনা গিয়েছে। খালিস্তানি সন্ত্রাসীরা কানাডায় নিজেদের কার্যকলাপ জোরদার করেছে এবং বিশেষ করে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করছে। তাদেরকে অর্থ ও খাদ্যের মাধ্যমে আকৃষ্ট করে, এই সন্ত্রাসীরা নিজেদের রাজনৈতিক এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহার করছে।
ভারতের হাই কমিশনারের মতে, এই আন্দোলনের ফলে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং তারা না বুঝেই খালিস্তানি সন্ত্রাসীদের প্ররোচনায় জড়িয়ে পড়ছে। সঞ্জয় বর্মা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ফলশ্রুতিতে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং ভারতের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ভারত সরকারের পদক্ষেপ
ভারত সরকার ইতোমধ্যেই কানাডায় খালিস্তানি সন্ত্রাসীদের কার্যকলাপ সম্পর্কে কানাডা সরকারের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করেছে। তবে সঞ্জয় বর্মা বলেন যে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে পরিবারগুলিরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। “আমাদের সরকার এ বিষয়ে কানাডার সরকারের সঙ্গে কথা বলছে। তবে আমাদের পরিবারগুলিও সচেতন হতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের সঠিক পথ দেখাতে হবে।”
কানাডায় কাজের বাজারে প্রতিযোগিতা
বর্মা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, কানাডায় চাকরির সুযোগ সীমিত থাকায় অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে বাধ্য হয়। “কাজের সুযোগের অভাবের কারণে অনেক শিক্ষার্থী এমন ধরনের প্রলোভনে পড়ে। তাদেরকে অর্থের লোভ দেখিয়ে এই ধরনের কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছে।”
শেষ কথা
ভারতীয় হাই কমিশনারের এই বার্তা স্পষ্ট, কানাডায় বসবাসরত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের নিজেদের সুরক্ষার দিকে নজর দিতে হবে এবং খালিস্তানি সন্ত্রাসীদের প্ররোচনায় পা না দিতে হবে।